মনের দুঃখে বনে যাই: একদিনে দেবতাখুম ভ্রমণ

স্কুলের ক্লাসের ভালো ছাত্রের মতো আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করার পর শুরু হয় দেবতাখুমের উদ্দেশে ট্রেকিং।

এটি মোটামুটি মধ্যম মানের একটি ট্রেকিং রুট। কচ্ছপতলী থেকে দেবতাখুম পৌঁছতে আমাদের সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো।

পাহাড়, বন ও ঝিরির পাশ দিয়ে ট্রেকিং করার মুহূর্তগুলো মনে একেবারে দাগ কেটে গেছে। ঝিরি পার হতে হয়েছে কয়েকবার।

কখনো চড়াই বেয়ে উঠছি তো কখনও উতরাই বেয়ে নামছি। এক সময় পৌঁছে যাই শীলবান্ধা পাড়ায়।

এখান থেকে তাকালে নৌকা ঘাটের টিকিট কাউন্টার চোখে পড়ে। পাড়া থেকে হেঁটে নৌকা ঘাট পর্যন্ত যেতে লাগে সাত থেকে আট মিনিট।

হেঁটে যাওয়ার সময় পাশে পড়ে এক সুন্দর মনমাতানো ভ্যালি। শীলবান্ধা পাড়ার পাশে শীলবান্ধা ঝর্ণা নামে একটি ঝর্ণা আছে; যদিও আকারে খুব ছোট এবং শীতকালে পানি খুবই কম থাকে।

দেবতাখুমের ভিতরে ঘুরে দেখার জন্য নৌকা ও ভেলার ব্যবস্থা রয়েছে। জনপ্রতি ১৫০ টাকায় লাইফ জ্যাকেটসহ এ সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রতিটি ভেলায় একজন এবং নৌকায় সর্বোচ্চ দশজন উঠা যায়। খুমের ভিতরে গভীরতা ৫০ থেকে ৭০ ফিট ও দৈর্ঘ্যে ৬০০ ফিট।

এটি বান্দরবানের আরেক জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান ভেলাখুম থেকে অনেক বড় এবং অনেক বেশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।

পাহাড়ে ট্রেকিং সব সময়ই রোমাঞ্চকর। আর সেটা যদি হয় পাহাড়ি ঝিরিপথে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে; তবে সেটা নিঃসন্দেহে দেবে এক স্বর্গীয় অনাবিল সুখ।

মনে হবে দুঃখ-কষ্ট, বেদনা কিংবা ক্লান্তি বলতে কিছুই নেই।

উল্লেখ্য, সারা বছর দেবতাখুম যাওয়া গেলেও ভরা বর্ষায় অনেক সময় ঝিরি ও খুমে পানি অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং সেক্ষেত্রে আর্মি যাওয়ার অনুমতি দেয় না।

অন্যদিকে শীতের শেষ থেকে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত পানি অনেক কমে যায়। তখন দেবতাখুম ভালো নাও লাগতে পারে।

এসব হিসাব বিচার-বিবেচনায় দেবতাখুম ঘুরার আদর্শ সময় হলো সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

দেবতাখুম যেতে চাইলে এ সময়ের মধ্যেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করা ভালো।

মন্তব্যর উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন