শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০২২

ছোট ছোট ব্যবসায় ব্যস্ত মিরসরাইয়ের নারীরা

সংসার জীবনের ১২ বছরের মধ্যে স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম আর তিন কন্যাসন্তানকে রেখে চলে যান স্বামী। এরপর অভাব-অনটন আর দুঃখ-কষ্টে জীবনধারণের পাশাপাশি সন্তানদের পড়ালেখা ও পরিবারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নেন ছেনোয়ারা বেগম। নিজ উদ্যোগে সেলাইয়ের প্রাথমিক কিছু কাজ শেখেন। পরবর্তী সময়ে মিরসরাই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পরিচালিত ‘ইনকাম জেনেরেটিং অ্যাকটিভিটিজ’ (আইজিএ) প্রকল্পের অধীনে তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ নেন। সেখান থেকে ছেনোয়ারা বেগমের দুঃখে ভরা জীবনের গল্প পরিবর্তন হতে শুরু করে।

প্রথমে গ্রামের নারীদের কাপড় সেলাই করলেও এখন স্হানীয় বারইয়ারহাট পৌরসভায় নিতুল টেইলার্স নামে তার নিজের একটি দোকান রয়েছে। যেখানে পাঁচ জন নারী সেলাইয়ের কাজ করেন। পাশাপাশি নারীদের সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেন ছেনোয়ারা বেগম। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বাকি দুজন পড়ালেখা করে। ছেনোয়ারা বেগমের মতো সহস্রাধিক নারী ফ্যাশন ডিজাইন এবং ক্রিস্টাল শোপিস ও ডেকোরেটেড কেন্ডেল মেকিং (মোমবাতি) ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জানা গেছে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মিরসরাইয়ে ১৭তম ব্যাচে ফ্যাশন ডিজাইন এবং ক্রিস্টাল শোপিস ও ডেকোরেটেড কেন্ডেল মেকিং (মোমবাতি) ট্রেডে এই পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জন মহিলা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
বুধবার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক পরিচালিত ‘ইনকাম জেনেরেটিং অ্যাকটিভিটিজ’ (আইজিএ) প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রশিক্ষণার্থীরা দুইটি কক্ষে হরেক রকমের পুঁতি ও রগ সুতা দিয়ে বিভিন্ন ক্রিস্টাল শোপিস তৈরির কাজ করছেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশের কক্ষে ব্লক, বাটিক, হ্যান্ডপ্রিন্ট, সেলাই, হাতের বুটিকসের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। সেখানেও হাতে কলমে সেলাই প্রশিক্ষণ, বুটিকসের কাজ শেখানো হচ্ছে।

ক্রিস্টাল ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা আর্জিনা আক্তার সুবর্ণা স্হানীয় নিজামপুর সরকারি কলেজের বিবিএস ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি ক্রিস্টাল শোপিস ও ডেকোরেটেড কেন্ডেল মেকিং (মোমবাতি) ট্রেডে ১৩ ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বাসায় ক্রিস্টালের বিভিন্ন শোপিস তৈরির কাজ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পেইজ খুলে নিজ হাতে তৈরি ক্রিস্টালের শোপিস নিজেই বিক্রি শুরু করেন। প্রথমে অর্ডার কম থাকলেও এখন প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেন তিনি। এখন বড় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন সুবর্ণা।

তিনি বলেন, উপজেলার স্হানীয় বাজারগুলোতে বিভিন্ন ডিজাইনের পুঁতি ও সুতা পাওয়া যায় না। মিরসরাই পৌর বাজার অথবা চট্টগ্রাম শহর থেকে কিনে আনতে হয়। স্হানীয়ভাবে ক্রিস্টাল শোপিসগুলোর চাহিদা এখনো কম হলেও অনলাইন মার্কেটে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পড়ালেখা শেষ করে আরো বৃহত্ পরিসরে ক্রিস্টাল শোপিস নিয়ে কাজ করতে চান সুবর্ণা।

ক্রিস্টাল শোপিচ ও ডেকোরেটেড কেন্ডেল মেকিং (মোমবাতি) ট্রেডের প্রশিক্ষক আছমা নূরী বলেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পরিচালিত ‘ইনকাম জেনেরেটিং অ্যাকটিভিটিজ’ (আইজিএ) প্রকল্পের অধীনে প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে তিন মাসের কোর্স শেষে সনদ ও যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণে কলেজ শিক্ষার্থী ও সমাজের অবহেলিত নারীদের আগ্রহ বেশি লক্ষণীয়। প্রশিক্ষণ শেষে সবাই স্ব স্ব উদ্যোগে উদ্যোক্তা হচ্ছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মেহের আফরোজ বলেন, নারীদের আত্মকর্মসংস্হানের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্প চালু করা হয়। যার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে ব্যবসার জন্য কেউ যদি ঋণ নিতে চান তাহলে আত্মকর্মসংস্হানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের আওতায় এই দপ্তর থেকে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ শেষে উদ্যোক্তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনয়নেও ভূমিকা রাখছেন।

আপনার জন্য নির্বাচিত খবর

মন্তব্যর উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন

যুক্ত হউন

12,150অনুসারীলাইক
105অনুসারীঅনুসরন
0সাবস্ক্রাইব করেছেসাবস্ক্রাইব

সর্বশেষ খবর