স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

0
35

দিনাজপুরে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিনাজপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমদ ভুঞা এ রায় দেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর (ঘাসিপাড়া) এলাকার মৃত মজিদ প্রামাণিকের মেয়ে ফাহমিনা বেগম (৪৩) ও তার প্রেমিক কথিত ধর্মভাই একই উপজেলার নিয়ামতপুর নতুনবাজার এলাকার সুশীল রবিদাসের ছেলে মানিক রবিদাস ওরফে আর্ট মানিক (৪৫)।

-বিজ্ঞাপন-

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর সকালে পার্বতীপুর উপজেলা শহরের মোজাফফর হোসেন মহল্লার বাসিন্দা মুদি ব্যবসায়ী আবু ছালাম মোল্লার মরদেহ নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবু হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে পার্বতীপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্ত্রী ফাহমিনা বেগম ও তার প্রেমিককে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে আসামি ফাহমিনা বেগম স্বেচ্ছায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী আব্দুল ছালাম মোল্লা তাকে ও তার ধর্মভাই মানিক রবিদাসকে নিয়ে সন্দেহ করতেন।

প্রথমে তার নামে জমি লিখে দিতে চাইলেও পরে লিখে দেননি। এ ক্ষোভে ঘটনার দিন ভোর ৪টায় ফাহমিনা বেগম মোবাইল ফোনে মানিক রবিদাসকে ডেকে আনেন। পরে ২ জনে মিলে নাইলনের রশি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আবু ছালাম মোল্লাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। এ ছাড়াও আসামি ফাহমিনা বেগম নিজেই সাফাই সাক্ষী প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম ও আসামি-পক্ষের আইনজীবী ছিলে অ্যাডভোকেট হযরত আলী বেলাল।

দিনাজপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্যর উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন