শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যা, জামাতা গ্রেফতার

0
5

পটুয়াখালীর দুমকিতে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের জামাইয়ের হাতে মোমেনা বেগম (৫০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবদি ঝড়ঝড়িয়াতলা গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চরগরবদি ফেরিঘাট এলাকা থেকে  জামাতা জামাল হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে।

নিহতের স্বামী কাঞ্চন গাজী অভিযোগ করেন, তার বড়মেয়ে শিল্পী বেগমের সঙ্গে ২০১১ সালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার ধনাইয়া গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে জামাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মেয়েজামাই তার বাড়িতে থেকে সংসার করছিল। তাদের সংসারে ৩টি কন্যাসন্তান রয়েছে।

-বিজ্ঞাপন-

ঢাকার কুতুবখালী বড় মাদ্রাসা রোডের একটি ভাড়া বাসায় থেকে জামাতা জামাল হোটেল বয়ের চাকরি করতেন। বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রী-কন্যাদের ঢাকায় নিয়ে বসবাস করতে চাইলে মেয়ের সঙ্গে জামাতার বিরোধ শুরু হয়।

গত শুক্রবার জামাল ঢাকা থেকে চরগরবদি গ্রামের বাড়িতে এসে মেয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তর্কবিতর্ক হয়। এর জের ধরে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়েকে মারধর শুরু করলে শ্বশুর-শাশুড়ি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক জামাল হোসেন বেড়ার পাশ থেকে ধারালো দা নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শাশুড়ি মোমেনা খাতুনকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

আহতের চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দুমকি উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর রাতেই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়ার পর সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে বলে নিহতের ছোট ছেলে জামাল হোসেন জানিয়েছেন।

এদিকে খুনের খবর জানাজানি হলে চরগরবদি ফেরিঘাট এলাকায় আত্মগোপনে থাকা ঘাতক জামালকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ বেলা ১টার দিকে ঘাতক জামালকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

দুমকি থানার ওসি মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘাতক জামালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মন্তব্যর উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন