ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারীদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে ভিন্ন

নারীদের হরমোনের পরিবর্তন যেমন- গর্ভাবস্থা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর প্রভাব রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগের লক্ষণ সকলের ক্ষেত্রেই এক, এটা ঠিক নয়।

ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, গলা শুকিয়ে আসা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে পরিচিত। তবে অনেকসময় নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ ভিন্ন হয়।

এই বিষয়ে টাইমসঅবইন্ডিয়া ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নারীদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ সম্পর্কে ব্যাঙ্গালুরু’র ‘রামাইয়া মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল’য়ের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক ডা. প্রমিলা কালরা বলেন, “নারীদের মাঝে ডায়াবেটিসের কিছু ভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে অনিয়মিত মাসিক, অনুর্বরতা, সহবাসে অনিহা, যোনির শুষ্কতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।”

ভারতের ‘বিএলকে-ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল’য়ের ডায়াবেটিস, থায়রয়েড, ওবেসিটি অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. অশোক কুমার ঝিঙ্গান এক্ষেত্রে বলেন, “ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে অনেকটাই আলাদা। পুরুষদের সাধারণত নারীদের তুলনায় কম বয়সে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

আরও বলেন, “নারীদের হরমোনের পরিবর্তন যেমন- গর্ভাবস্থা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর প্রভাব রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া, ডায়াবেটিসের কারণে হৃদরোগ ও উদ্বেগজনিত জটিলতাও দেখা দেয়।”

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা কি দুই ঘণ্টা পর পর খাবেন?

‘আমেরিকান বোর্ড অফ এন্ডোক্রিনোলাজি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজম ইন্টারনাল মেডিসিন’য়ের কুটনৈতিক সদস্য ও মুম্বাইয়ের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. পিয়া বল্লানি থাক্কর বলেন, “ডায়াবেটিকদের রক্তে শর্করার মাত্রা সারাদিন নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশ কঠিন কাজ। এখানে নিয়মিত কিছুক্ষণ পর পর খাবার খেতে হয়। তবে এই খাবার খাওয়ার বিরতি ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়ে থাকে।”

ডা. প্রমিলা আরও যোগ করেন, “যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের খাদ্য তালিকায় উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ খাবার, প্রচুর সবজি, কম চর্বি এবং জটিল কার্বোহাইড্রেইটস সঙ্গে শূন্য ট্রান্সফ্যাট ধরনের খাবার ও প্রোটিন যেমন- ডাল, প্রাণিজ প্রোটিন ইত্যাদি থাকা প্রয়োজন।”

এছাড়া রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনুযায়ী দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ফল খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, অ্যালকোহল ও মিষ্টি পানীয় ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে।”

মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে কি?

ডা. ঝিঙ্গান বলেন, “সবাই জানে, ফল ও সবজি শরীরের জন্য উপকারী। এটা ভালো নাস্তাও হতে পারে। নাস্তা হিসেবে ফল বাছাই করা হলে দেহে পুষ্টি, খনিজ ও আঁশের যোগান দেন।”

“অনেকেই মনে করেন ফল খুব বেশি মিষ্টি হলে তা এড়ানো উচিত। এটা ঠিক নয়। ফলে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা যা ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারী। ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল বাছাই করা উচিত। আর একবারে বেশি খাওয়ার চেয়ে দিনে কয়েকবারে তা খাওয়া ভালো”, পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

ডায়াবেটিসের কারণে হওয়া সংক্রমণ এড়াতে

ইস্টের সংক্রমণ ও মূত্রাশয়ের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। সংক্রমণ থেকে বাঁচার আরও কিছু উপায় হল প্রচুর পানি পান করা, সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার এবং প্রসাব চেপে না রাখা।

 

নারীদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে ভিন্ন

আপডেট সময় : ০২:১৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

নারীদের হরমোনের পরিবর্তন যেমন- গর্ভাবস্থা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর প্রভাব রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগের লক্ষণ সকলের ক্ষেত্রেই এক, এটা ঠিক নয়।

ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, গলা শুকিয়ে আসা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে পরিচিত। তবে অনেকসময় নারীদের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ ভিন্ন হয়।

এই বিষয়ে টাইমসঅবইন্ডিয়া ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নারীদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ সম্পর্কে ব্যাঙ্গালুরু’র ‘রামাইয়া মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল’য়ের এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক ডা. প্রমিলা কালরা বলেন, “নারীদের মাঝে ডায়াবেটিসের কিছু ভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। সাধারণত, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে অনিয়মিত মাসিক, অনুর্বরতা, সহবাসে অনিহা, যোনির শুষ্কতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।”

ভারতের ‘বিএলকে-ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল’য়ের ডায়াবেটিস, থায়রয়েড, ওবেসিটি অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডা. অশোক কুমার ঝিঙ্গান এক্ষেত্রে বলেন, “ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে অনেকটাই আলাদা। পুরুষদের সাধারণত নারীদের তুলনায় কম বয়সে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”

আরও বলেন, “নারীদের হরমোনের পরিবর্তন যেমন- গর্ভাবস্থা, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর প্রভাব রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া, ডায়াবেটিসের কারণে হৃদরোগ ও উদ্বেগজনিত জটিলতাও দেখা দেয়।”

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা কি দুই ঘণ্টা পর পর খাবেন?

‘আমেরিকান বোর্ড অফ এন্ডোক্রিনোলাজি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজম ইন্টারনাল মেডিসিন’য়ের কুটনৈতিক সদস্য ও মুম্বাইয়ের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. পিয়া বল্লানি থাক্কর বলেন, “ডায়াবেটিকদের রক্তে শর্করার মাত্রা সারাদিন নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশ কঠিন কাজ। এখানে নিয়মিত কিছুক্ষণ পর পর খাবার খেতে হয়। তবে এই খাবার খাওয়ার বিরতি ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়ে থাকে।”

ডা. প্রমিলা আরও যোগ করেন, “যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের খাদ্য তালিকায় উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ খাবার, প্রচুর সবজি, কম চর্বি এবং জটিল কার্বোহাইড্রেইটস সঙ্গে শূন্য ট্রান্সফ্যাট ধরনের খাবার ও প্রোটিন যেমন- ডাল, প্রাণিজ প্রোটিন ইত্যাদি থাকা প্রয়োজন।”

এছাড়া রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনুযায়ী দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ফল খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, অ্যালকোহল ও মিষ্টি পানীয় ইত্যাদি খাবার এড়িয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে।”

মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে কি?

ডা. ঝিঙ্গান বলেন, “সবাই জানে, ফল ও সবজি শরীরের জন্য উপকারী। এটা ভালো নাস্তাও হতে পারে। নাস্তা হিসেবে ফল বাছাই করা হলে দেহে পুষ্টি, খনিজ ও আঁশের যোগান দেন।”

“অনেকেই মনে করেন ফল খুব বেশি মিষ্টি হলে তা এড়ানো উচিত। এটা ঠিক নয়। ফলে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা যা ডায়াবেটিকদের জন্য উপকারী। ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল বাছাই করা উচিত। আর একবারে বেশি খাওয়ার চেয়ে দিনে কয়েকবারে তা খাওয়া ভালো”, পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

ডায়াবেটিসের কারণে হওয়া সংক্রমণ এড়াতে

ইস্টের সংক্রমণ ও মূত্রাশয়ের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। সংক্রমণ থেকে বাঁচার আরও কিছু উপায় হল প্রচুর পানি পান করা, সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার এবং প্রসাব চেপে না রাখা।