ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য

মনিটর এর দাম জানতে এখন-ই ক্লিক করুন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের জন্য দুঃসংবাদ দিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে এবং এই চুক্তির আওতায় আশ্রয়ের আবেদন করে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে। যুক্তরাজ্যে ১১ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশের আবেদন সফল হয়েছে। ফলে ৯৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

এতে বলা হয়, ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশিদের ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হবে। সেখানে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। গত বছর প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে, যারা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য ১২ মাসের মধ্যেই আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।

অভিবাসীরা গত বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, কর্মী বা ভ্রমণ ভিসায় ব্রিটেনে এসে আশ্রয় দাবি করে দেশটিতে প্রবেশের ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশিদের প্রাথমিক আশ্রয় দাবির মাত্র ৫ শতাংশ সফল হয়েছে।

করেছেন। এই চুক্তির অধীনে শুধু ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীরাই নয়, বিদেশি নাগরিকদের যারা অপরাধী এবং যেসব ব্যক্তি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশের পর বাড়তি সময় অতিবাহিত করেছেন তাদেরও নির্বাসনের কাজ সহজ হবে।

এসকল অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে সহায়ক প্রমাণ রয়েছে, তাই রিটার্ন চুক্তিটির ফলে বাধ্যতামূলক কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই তাদের দেশে ফেরত পাঠনো যাবে।

চলতি সপ্তাহে লন্ডনে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম যৌথ ইউকে-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপে উভয়পক্ষ রিটার্ন চুক্তিটিতে সম্মত হয়। সেখানে উভয় দেশ তাদের মধ্যকার অংশীদারিত্বের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা জানায়।

টমলিনসন বলেছেন, ‘অবৈধভাবে এখানে আসা বা থাকা বন্ধ করার জন্য অবৈধ অভিবাসীদের অপসারণের কাজ ত্বরান্বিত করা আমাদের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ একটি মূল্যবান অংশীদার এবং আমরা তাদের সঙ্গে এই ইস্যুর পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে স্পষ্ট প্রমাণ দেখতে পেয়েছি যে, এই ধরনের চুক্তিগুলো অবৈধ অভিবাসনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন এবং আমি সবার জন্য ন্যায্য ব্যবস্থা তৈরি করতে বাংলাদেশ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।’

ভিসা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেয়, যা সাধারণত কয়েক মাস। কিন্তু আশ্রয়ের আবেদনের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশটিতে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কারণ, তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে মানবাধিকার আইনসহ বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হয় হোম অফিস।

গত মাসে প্রকাশ্যে আসা অফিসিয়াল ডকুমেন্টস অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী ২১ হাজার ৫২৫ জন ভিসাধারী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫৪ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়ে প্রবেশকারী প্রতি ১৪০ জনের মধ্যে একজন দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছে। গত এক দশকে, ১০ লাখ ২ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি শুধুমাত্র অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পাওয়ার পরেও থাকার জন্য আবেদন করেছে।

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনকারীদের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ জন নাগরিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এরপরই বাংলাদেশের রয়েছে ১১ হাজার, ভারতের ৭ হাজার ৪০০, নাইজেরিয়ার ৬ হাজার ৬০০ এবং আফগানিস্তানের রয়েছে ৬ হাজার জন।

গত বছর যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই এমন ২৬ হাজার লোককে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি।

সকল প্রকার কম্পিউটার পূন্যের দাম জানতে এখন-ই ক্লিক করুন

৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় : ১২:২২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিদের জন্য দুঃসংবাদ দিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তিতে সম্মত হয়েছে এবং এই চুক্তির আওতায় আশ্রয়ের আবেদন করে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে। যুক্তরাজ্যে ১১ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়ের আবেদন করেছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশের আবেদন সফল হয়েছে। ফলে ৯৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

এতে বলা হয়, ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশিদের ফাস্ট-ট্র্যাক রিটার্ন চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হবে। সেখানে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। গত বছর প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে, যারা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য ১২ মাসের মধ্যেই আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন।

অভিবাসীরা গত বছরের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, কর্মী বা ভ্রমণ ভিসায় ব্রিটেনে এসে আশ্রয় দাবি করে দেশটিতে প্রবেশের ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশিদের প্রাথমিক আশ্রয় দাবির মাত্র ৫ শতাংশ সফল হয়েছে।

করেছেন। এই চুক্তির অধীনে শুধু ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীরাই নয়, বিদেশি নাগরিকদের যারা অপরাধী এবং যেসব ব্যক্তি ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশের পর বাড়তি সময় অতিবাহিত করেছেন তাদেরও নির্বাসনের কাজ সহজ হবে।

এসকল অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে সহায়ক প্রমাণ রয়েছে, তাই রিটার্ন চুক্তিটির ফলে বাধ্যতামূলক কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই তাদের দেশে ফেরত পাঠনো যাবে।

চলতি সপ্তাহে লন্ডনে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক প্রথম যৌথ ইউকে-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপে উভয়পক্ষ রিটার্ন চুক্তিটিতে সম্মত হয়। সেখানে উভয় দেশ তাদের মধ্যকার অংশীদারিত্বের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা জানায়।

টমলিনসন বলেছেন, ‘অবৈধভাবে এখানে আসা বা থাকা বন্ধ করার জন্য অবৈধ অভিবাসীদের অপসারণের কাজ ত্বরান্বিত করা আমাদের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ একটি মূল্যবান অংশীদার এবং আমরা তাদের সঙ্গে এই ইস্যুর পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে স্পষ্ট প্রমাণ দেখতে পেয়েছি যে, এই ধরনের চুক্তিগুলো অবৈধ অভিবাসনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন এবং আমি সবার জন্য ন্যায্য ব্যবস্থা তৈরি করতে বাংলাদেশ ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।’

ভিসা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেয়, যা সাধারণত কয়েক মাস। কিন্তু আশ্রয়ের আবেদনের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশটিতে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কারণ, তাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে মানবাধিকার আইনসহ বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হয় হোম অফিস।

গত মাসে প্রকাশ্যে আসা অফিসিয়াল ডকুমেন্টস অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী ২১ হাজার ৫২৫ জন ভিসাধারী যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫৪ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়ে প্রবেশকারী প্রতি ১৪০ জনের মধ্যে একজন দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করেছে। গত এক দশকে, ১০ লাখ ২ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি শুধুমাত্র অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পাওয়ার পরেও থাকার জন্য আবেদন করেছে।

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনকারীদের শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ জন নাগরিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এরপরই বাংলাদেশের রয়েছে ১১ হাজার, ভারতের ৭ হাজার ৪০০, নাইজেরিয়ার ৬ হাজার ৬০০ এবং আফগানিস্তানের রয়েছে ৬ হাজার জন।

গত বছর যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই এমন ২৬ হাজার লোককে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি।