Thursday, December 1, 2022

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পুলিশের বৈঠক সিঙ্গাপুরের আদলে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা

পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। এতে পুলিশ প্রধান ছাড়াও সব জেলার এসপি, ডিআইজি, মহানগর কমিশনার ও ইউনিট প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সপ্তাহে এবারই প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময়ের আয়োজন করা হলো। গতকাল রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত’ ও ‘দেশবিরোধী নানা বিষয় ছড়িয়ে অনেক সময় গুজব এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে কথা হয়। সিঙ্গাপুরসহ আরও কয়েকটি দেশের আদলে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখতে বলা হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হলেও জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য চাইলে ফেসবুক, ইউটিউব যথাসময়ে বাংলাদেশকে সরবরাহ করেনি। সিঙ্গাপুরের মতো বাংলাদেশেরও তাদের সঙ্গে চুক্তি থাকলে বিতর্কিত কনটেন্ট দ্রুত সরানো যেত। এমনকি চুক্তি মেনে এসব প্রচারের ব্যাপারেও বাধ্যবাধকতা থাকত।। সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক একটি স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে যায় না। এ ক্ষেত্রে কাজ করতে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পুলিশ মহাপরিদর্শক ড, বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজি মো. কামরুল আহসান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে পুলিশের আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের কল্যাণে পুলিশের প্রবাসী সহায়তা সেল এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আগাম ব্যবস্থা এবং ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহের ওপরেও জোর দেন সচিব। তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তি মিশনের মাধ্যমে আমাদের যে সুনাম এসেছে, তা ধরে রাখতে ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

 

বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের দুই কোটির বেশি নাগরিক প্রবাসে রয়েছেন। বিশ্বের প্রায় দেশের দূতাবাসেই পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার রয়েছেন। তারা মূলত কোনো ডিপ্লোম্যাট নন। তবে বিদেশে প্রবাসী আর দেশে তার কোনো স্বজন আইনি ঝামেলায় পড়লে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার তা প্রতিকারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তারা মূলত প্রবাসীর আইনগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপার দেখভাল করেন। এ পদটি না থাকায় কোনো প্রবাসীর স্বজন দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হলে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অভিযোগ পুলিশের কাছে পৌঁছাতে অনেক সময় ব্যয় হয়। পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের কারাগারে নানা কারণে বাংলাদেশের নাগরিকরা বন্দি রয়েছেন। পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার থাকলে আইনি পথে এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া শান্তিরক্ষা মিশনেও পুলিশের জন্য যেসব পদ রয়েছে সেখানেও তারা যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করছে। এটাকে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে পুলিশ প্রধান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন আর নৌকায় করে অভিবাসী হিসেবে বিদেশে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

সূত্র : সমকালের সৌজন্যে

আপনার জন্য নির্বাচিত খবর

মন্তব্যর উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন

যুক্ত হউন

12,150অনুসারীলাইক
103অনুসারীঅনুসরন
0সাবস্ক্রাইব করেছেসাবস্ক্রাইব

সর্বশেষ খবর