ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৩ ট্রেন দেরিতে ছাড়লো, নারী-শিশুদের ভোগান্তি বেশি

ট্রেনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন শনিবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে গেছে। সকাল ৬টায় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সেপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা ছেড়েছে প্রায় পৌন দুই ঘণ্টা দেরিতে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে।

এরপর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ অভিমুখী মহুয়া কমিউটার ও চট্টগ্রাম অভিমুখী কর্ণফুলী এক্সেপ্রেস ট্রেনও স্টেশন ছেড়ে যায় অনেকটা বিলম্বে। এতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় নারী-শিশুদের। দেরিতে ট্রেন ছাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় যাত্রীদের মাঝে।

সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৬টায় ধমকেতু এক্সেপ্রেসের স্টেশন ছাড়ার ছাড়ার কথা। তবে ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে ৭টা ৪৫ মিনিটে, অর্থাৎ এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট দেরিতে। মহুয়া কমিউটার ছাড়ার কথা ৮টা ১৫ মিনিটে, সেটি ৩৫ মিনিট বিলম্বে স্টেশন ছাড়ে ৮টা ৫০ মিনিটে। কর্ণফুলী এক্সেপ্রেসের সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি ৪০ মিনিট দেরিতে ৯টা ২৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ে।

এছাড়া তিতাস কমিউটার ৯টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও স্টেশন ছাড়ে সকাল ১০টায়। তবে অন্য ট্রেনগুলোতে স্বস্তির ঈদযাত্রা দেখা গেছে। অর্থাৎ কিছু ট্রেন যেমন বিলম্বে যাত্রা করে, আবার কিছু ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময়ে।

এদিকে, দেরিতে ছাড়া ট্রেনের যাত্রীদের এদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষত নারী ও শিশু যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল বেশি। ধূমকেতু এক্সেপ্রেসের এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, দিনের শুরুতেই যদি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয় তবে সারাদিন কী হবে? স্টেশনের ভেতরে ভালো টয়লেট নেই, বিশ্রামও নেওয়া যায় না। এ অবস্থায় দেরিতে ট্রেন ছাড়লে ভোগান্তি বাড়ে। নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার কথা বিবেচনায় নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়গুলো আরও তদারকি করা উচিত।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, শনিবার বেশিরভাগ ট্রেনই যথাসময়ে স্টেশন ছেড়েছে। দু-একটি ট্রেন দেরিতে আসায় স্টেশন ছাড়তে কিছুটা সময় লেগেছে। এদিন ৪২ জোড়া আন্তঃনগর, লোকাল ২৫ জোড়া এবং দুই জোড়া স্পেশালসহ ৬৯ জোড়া ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলাচল করছে। ঈদের দিনও স্পেশাল ট্রেন থাকছে।

গত ২৪ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩ এপ্রিল শুরু হয় ঈদের ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি৷ একই দিনে শুরু হয় ট্রেনযোগে ঈদযাত্রা।

শনিবারও ঈদের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করছে রেলওয়ে। ১৬ এপ্রিল যারা ঢাকায় ফিরতে চান তাদের আজ টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অনলাইন মাধ্যমে সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। টিকিট ক্রয় সহজ করার লক্ষ্যে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা হতে এবং পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ইস্যু করা হচ্ছে।

যাত্রী সাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট ভ্রমণের দিন যাত্রা শুরুর আগ মুহূর্তে স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।

৩ ট্রেন দেরিতে ছাড়লো, নারী-শিশুদের ভোগান্তি বেশি

আপডেট সময় : ১১:৩৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৪

ট্রেনে ঈদযাত্রার চতুর্থ দিন শনিবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে গেছে। সকাল ৬টায় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সেপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা ছেড়েছে প্রায় পৌন দুই ঘণ্টা দেরিতে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে।

এরপর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ অভিমুখী মহুয়া কমিউটার ও চট্টগ্রাম অভিমুখী কর্ণফুলী এক্সেপ্রেস ট্রেনও স্টেশন ছেড়ে যায় অনেকটা বিলম্বে। এতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় নারী-শিশুদের। দেরিতে ট্রেন ছাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় যাত্রীদের মাঝে।

সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৬টায় ধমকেতু এক্সেপ্রেসের স্টেশন ছাড়ার ছাড়ার কথা। তবে ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে ৭টা ৪৫ মিনিটে, অর্থাৎ এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট দেরিতে। মহুয়া কমিউটার ছাড়ার কথা ৮টা ১৫ মিনিটে, সেটি ৩৫ মিনিট বিলম্বে স্টেশন ছাড়ে ৮টা ৫০ মিনিটে। কর্ণফুলী এক্সেপ্রেসের সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি ৪০ মিনিট দেরিতে ৯টা ২৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ে।

এছাড়া তিতাস কমিউটার ৯টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও স্টেশন ছাড়ে সকাল ১০টায়। তবে অন্য ট্রেনগুলোতে স্বস্তির ঈদযাত্রা দেখা গেছে। অর্থাৎ কিছু ট্রেন যেমন বিলম্বে যাত্রা করে, আবার কিছু ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময়ে।

এদিকে, দেরিতে ছাড়া ট্রেনের যাত্রীদের এদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষত নারী ও শিশু যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল বেশি। ধূমকেতু এক্সেপ্রেসের এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, দিনের শুরুতেই যদি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয় তবে সারাদিন কী হবে? স্টেশনের ভেতরে ভালো টয়লেট নেই, বিশ্রামও নেওয়া যায় না। এ অবস্থায় দেরিতে ট্রেন ছাড়লে ভোগান্তি বাড়ে। নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার কথা বিবেচনায় নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়গুলো আরও তদারকি করা উচিত।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, শনিবার বেশিরভাগ ট্রেনই যথাসময়ে স্টেশন ছেড়েছে। দু-একটি ট্রেন দেরিতে আসায় স্টেশন ছাড়তে কিছুটা সময় লেগেছে। এদিন ৪২ জোড়া আন্তঃনগর, লোকাল ২৫ জোড়া এবং দুই জোড়া স্পেশালসহ ৬৯ জোড়া ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলাচল করছে। ঈদের দিনও স্পেশাল ট্রেন থাকছে।

গত ২৪ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩ এপ্রিল শুরু হয় ঈদের ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি৷ একই দিনে শুরু হয় ট্রেনযোগে ঈদযাত্রা।

শনিবারও ঈদের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করছে রেলওয়ে। ১৬ এপ্রিল যারা ঢাকায় ফিরতে চান তাদের আজ টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অনলাইন মাধ্যমে সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। টিকিট ক্রয় সহজ করার লক্ষ্যে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা হতে এবং পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ইস্যু করা হচ্ছে।

যাত্রী সাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট ভ্রমণের দিন যাত্রা শুরুর আগ মুহূর্তে স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।