ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘনীভূত হচ্ছে সংকট, অনিশ্চয়তায় ২৮ হাজার হজযাত্রী

· এখনো শুরু হয়নি হজযাত্রীদের ভিসা কার্যক্রম
· অনিশ্চয়তায় ২৮ হাজার হজযাত্রীর যাত্রা
· ২০ দিন বাকি থাকলেও এখনো ঘোষণা হয়নি ফ্লাইট শিডিউল
· মুনাফালোভী এজেন্সিগুলোকে দায়ী করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়
· চ্যালেঞ্জ বুঝতে না পারলে আগামীতে কপালে দুঃখ আছে : হাব সভাপতি

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতিবছর ঈদের একমাস আগে থেকেই শুরু হয় হজ ফ্লাইট। তার আগে হজযাত্রীদের ভিসা, ফ্লাইট শিডিউল সংক্রান্ত কাজ সারে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এয়ারলাইন্সগুলো। অথচ এবার এখনো শুরু হয়নি ভিসা কার্যক্রম। চূড়ান্ত হজযাত্রীদের তালিকা না পাওয়ায় ঘোষণা হয়নি ফ্লাইট শিডিউলও।

এদিকে ২৮ হাজার হজযাত্রীর মুজদালিফায় যাওয়ায় অনিশ্চয়তাসহ বেশকিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এককথায় চলতি বছর হজের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এজন্য হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় একে অপরকে দোষারোপ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের হজ প্যাকেজ অনুযায়ী— ৯ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়া কথা। কিন্তু সৌদিতে বাড়ি ভাড়া করতে না পারা, ২৮ হাজার হজযাত্রীর মুজদালিফায় যাওয়া অনিশ্চয়তা, হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়ার জন্য এজেন্সির প্রতিনিধিদের ভিসা না পাওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জর মুখে চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা। এসব সংকট কাটাতে কার্যত কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

 

চলতি বছরের হজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম। সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৪ হাজার ২৮৩ জন হজযাত্রীর জন্য বাসা ভাড়া করা গেলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭৮ হাজার ৮৯৫ হজযাত্রীর বাসা ভাড়ার জন্য কোনো সহায়তা করছে না মন্ত্রণালয়।

হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, মুজদালিফায় প্রায় ২৮ হাজার হজযাত্রীর অবস্থান অনিশ্চিত। অথচ এ বিষয়ে হজ মিশন ও মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। হাব দেখতে চায়, হজ মিশন হজযাত্রীদের সমস্যার সমাধান করবে। যে-সব এজেন্সি রিফাতের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের শাস্তির চেয়ে এখন হজের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এখনও ভিসার আবেদন করেননি ৮০ শতাংশ হজযাত্রী

গত বছর নভেম্বর মাসে ২০২৪ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান জানিয়েছেন, এই বছরের ১ মার্চ থেকে পবিত্র হজ পালনের ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ২৯ এপ্রিল ভিসা আবেদন করা যাবে।

কিন্তু দেড় মাসে মাত্র ভিসা আবেদন করেছে মাত্র ১৬ হাজারের মত। ৮০ শতাংশ হজযাত্রী এখনো ভিসার জন্য আবেদন করেননি।

মূলত সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করতে না পারা, মিনা, মুজদালিফায় অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারায় ভিসা আবেদন করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মুজদালিফায় থাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ২৮ হাজার ভিসা আবেদন কবে শুরু হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া, মোয়াল্লেমসহ (হজযাত্রীদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব যাদের ওপর) সৌদি আরবের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত পূরণ করে হজযাত্রীদের ভিসা আবেদন করতে হয়। এর যে কোনো একটি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে হজের ভিসা মিলবে না। সরকারিভাবে খুবই শিগগিরই ভিসা আবেদন শুরু হলেও বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো বাড়ি ভাড়া জটিলতার সমাধান না করা পর্যন্ত ভিসা আবেদন করতে পারবে না।

জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভিসা আবেদন করার আগে বাড়ি ভাড়া, মোয়াল্লেমসহ অন্যান্য বিষয়গুলো এখনো অনেক এজেন্সি সমাধান করতে পারেনি। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা যাবেন, তাদের ভিসা আবেদনের কোনো জটিলতা নেই। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ভিসা আবেদন শুরু হবে। এজন্য সৌদি দূতাবাস থেকে স্লট নেওয়া হয়েছে।

ঘোষণা হয়নি ফ্লাইট শিডিউলও

প্যাকেজ অনুযায়ী, ৯ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো হজের প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেনি এয়ারলাইন্সগুলো। অথচ গত বছর এক মাস আগে হজ ফ্লাইটের শিডিউল ঘোষণা করে তিনটি এয়ারলাইন্স। ভিসাপ্রাপ্ত হজযাত্রী না পাওয়ায় এবার ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করতে পারছেন না তারা।

গত বছর এক লাখ ১৯ হাজার ৬৯৫ জন হজযাত্রীকে বহন করার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সৌদিয়া) ও সৌদির বেসরকারি এয়ারলাইন্স ফ্লাইনাস মোট ৩৩৫ হজ ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করে। চুক্তি অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর অর্ধেক বহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বাকি অর্ধেক বহন করে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ার।

ঘনীভূত হচ্ছে সংকট, অনিশ্চয়তায় ২৮ হাজার হজযাত্রী

আপডেট সময় : ০২:২৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪

· এখনো শুরু হয়নি হজযাত্রীদের ভিসা কার্যক্রম
· অনিশ্চয়তায় ২৮ হাজার হজযাত্রীর যাত্রা
· ২০ দিন বাকি থাকলেও এখনো ঘোষণা হয়নি ফ্লাইট শিডিউল
· মুনাফালোভী এজেন্সিগুলোকে দায়ী করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়
· চ্যালেঞ্জ বুঝতে না পারলে আগামীতে কপালে দুঃখ আছে : হাব সভাপতি

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতিবছর ঈদের একমাস আগে থেকেই শুরু হয় হজ ফ্লাইট। তার আগে হজযাত্রীদের ভিসা, ফ্লাইট শিডিউল সংক্রান্ত কাজ সারে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও এয়ারলাইন্সগুলো। অথচ এবার এখনো শুরু হয়নি ভিসা কার্যক্রম। চূড়ান্ত হজযাত্রীদের তালিকা না পাওয়ায় ঘোষণা হয়নি ফ্লাইট শিডিউলও।

এদিকে ২৮ হাজার হজযাত্রীর মুজদালিফায় যাওয়ায় অনিশ্চয়তাসহ বেশকিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এককথায় চলতি বছর হজের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এজন্য হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় একে অপরকে দোষারোপ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের হজ প্যাকেজ অনুযায়ী— ৯ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়া কথা। কিন্তু সৌদিতে বাড়ি ভাড়া করতে না পারা, ২৮ হাজার হজযাত্রীর মুজদালিফায় যাওয়া অনিশ্চয়তা, হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়ার জন্য এজেন্সির প্রতিনিধিদের ভিসা না পাওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জর মুখে চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা। এসব সংকট কাটাতে কার্যত কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

 

চলতি বছরের হজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম। সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৪ হাজার ২৮৩ জন হজযাত্রীর জন্য বাসা ভাড়া করা গেলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭৮ হাজার ৮৯৫ হজযাত্রীর বাসা ভাড়ার জন্য কোনো সহায়তা করছে না মন্ত্রণালয়।

হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, মুজদালিফায় প্রায় ২৮ হাজার হজযাত্রীর অবস্থান অনিশ্চিত। অথচ এ বিষয়ে হজ মিশন ও মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। হাব দেখতে চায়, হজ মিশন হজযাত্রীদের সমস্যার সমাধান করবে। যে-সব এজেন্সি রিফাতের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের শাস্তির চেয়ে এখন হজের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এখনও ভিসার আবেদন করেননি ৮০ শতাংশ হজযাত্রী

গত বছর নভেম্বর মাসে ২০২৪ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান জানিয়েছেন, এই বছরের ১ মার্চ থেকে পবিত্র হজ পালনের ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ২৯ এপ্রিল ভিসা আবেদন করা যাবে।

কিন্তু দেড় মাসে মাত্র ভিসা আবেদন করেছে মাত্র ১৬ হাজারের মত। ৮০ শতাংশ হজযাত্রী এখনো ভিসার জন্য আবেদন করেননি।

মূলত সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করতে না পারা, মিনা, মুজদালিফায় অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারায় ভিসা আবেদন করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মুজদালিফায় থাকা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ২৮ হাজার ভিসা আবেদন কবে শুরু হবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া, মোয়াল্লেমসহ (হজযাত্রীদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব যাদের ওপর) সৌদি আরবের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত পূরণ করে হজযাত্রীদের ভিসা আবেদন করতে হয়। এর যে কোনো একটি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে হজের ভিসা মিলবে না। সরকারিভাবে খুবই শিগগিরই ভিসা আবেদন শুরু হলেও বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো বাড়ি ভাড়া জটিলতার সমাধান না করা পর্যন্ত ভিসা আবেদন করতে পারবে না।

জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভিসা আবেদন করার আগে বাড়ি ভাড়া, মোয়াল্লেমসহ অন্যান্য বিষয়গুলো এখনো অনেক এজেন্সি সমাধান করতে পারেনি। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা যাবেন, তাদের ভিসা আবেদনের কোনো জটিলতা নেই। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ভিসা আবেদন শুরু হবে। এজন্য সৌদি দূতাবাস থেকে স্লট নেওয়া হয়েছে।

ঘোষণা হয়নি ফ্লাইট শিডিউলও

প্যাকেজ অনুযায়ী, ৯ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো হজের প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেনি এয়ারলাইন্সগুলো। অথচ গত বছর এক মাস আগে হজ ফ্লাইটের শিডিউল ঘোষণা করে তিনটি এয়ারলাইন্স। ভিসাপ্রাপ্ত হজযাত্রী না পাওয়ায় এবার ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করতে পারছেন না তারা।

গত বছর এক লাখ ১৯ হাজার ৬৯৫ জন হজযাত্রীকে বহন করার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সৌদিয়া) ও সৌদির বেসরকারি এয়ারলাইন্স ফ্লাইনাস মোট ৩৩৫ হজ ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করে। চুক্তি অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর অর্ধেক বহন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বাকি অর্ধেক বহন করে সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস এয়ার।