ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বেনজীরের তিন কালো হাত

মনিটর এর দাম জানতে এখন-ই ক্লিক করুন

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদ এবং বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে নিযুক্ত ছিল একাধিক ব্যক্তির একটি দল। তাঁরা মূলত বেনজীরের জন্য দেশে-বিদেশে জমি বা সম্পদ কেনা, ব্যবসায়ীদের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে নির্যাতনের মতো অপকর্ম সামাল দিতেন। শুধু তা-ই নয়, বেনজীর নিজে নেপথ্যে থেকে এই সিন্ডিকেট সামনে রেখে নিয়ন্ত্রণ করতেন পুলিশের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্র্যান্ডিং, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য। এই দলের অগ্রভাগে ছিলেন এজিএম সাব্বির ওরফে বিকাশ সাব্বির, নাজমুস সাকিব জুবায়ের ও আমজাদ হোসেন আরজু।

অনুসন্ধান বলছে, বেনজীর আহমেদের ‘আলাদীনের চেরাগ’ তথা জাদুর কাঠির স্পর্শে আলোকিত হয়ে ওঠেন তাঁর সহযোগীরাও। বেনজীরের মতো তাঁরাও দেশে-বিদেশে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। বেনজীরের স্ত্রী ও কন্যাদের সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসা রয়েছে। আছে নামে-বেনামে জমি, ফ্ল্যাট ও প্লট।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই এই সহযোগীরাও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন বিকাশ সাব্বির। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সাব্বির বড় হন রাজধানীর পূর্ব গোড়ানে। শিক্ষাজীবন শেষ করে ২০০২ সালে মাস্টারমাইন্ড স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।

সেখানে এক নারী শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁকে বিয়ে করেন সাব্বির। ওই নারী শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হওয়ায় সাব্বিরও যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে নাগরিকত্ব লাভের পর ওই স্ত্রীকে ত্যাগ করে একজন বিমানবালাকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর একটি ছেলে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই সন্তান রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাস্টারমাইন্ড স্কুলে শিক্ষকতার সময় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।

সেই সূত্রে বিএনপির শীর্ষ ও মাঝারি মানের অনেক নেতার সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্য। তা ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবীব তাঁর বাল্যবন্ধু হওয়ার কারণে বিএনপির অনেক নেতার সঙ্গে এখনো তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

এদিকে ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সমাবেশ ঘিরে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক হন বিকাশ সাব্বির। ওই সময় সাব্বিরের গতিবিধি গোয়েন্দা বিভাগের নজরে এলে তাঁকে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বনানী থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। তখন বেনজীর আহমেদের জোরালো সুপারিশে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র বলছে, লন্ডনে সাব্বিরের সঙ্গে পরিচয় হয় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ছোট ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তসলিম আহমেদ মুন্নার। সেই সূত্রে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে সম্পর্ক হয় বেনজীর আহমেদের সঙ্গে। এর পরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাব্বির। আমজাদ হোসেন আরজু ও নাজমুস সাকিব জুবায়েরের সঙ্গে গড়ে তোলেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। ক্যাসিনোকাণ্ডে আটক মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে সাব্বির ওরফে বিকাশ বেনজীর আহমেদের ক্যাসিনোর মাসিক চাঁদার টাকা সংগ্রহ করতেন। পরবর্তী সময়ে বেনজীর আহমেদের তোড়জোড়ে সাব্বির মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক ও ক্রিকেট কমিটির প্রধান নির্বাচিত হন।

অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন এই বিকাশ সাব্বির। এর মধ্যেই বেনজীর আহমেদের পরিবারের ব্যাবসায়িক অংশীদার হয়ে ওঠেন এজিএম সাব্বির, নাজমুস সাকিব জুবায়ের ও আমজাদ হোসেন আরজু। এই তিনজনের সঙ্গে একাধিকবার থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দুবাই, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পর্তুগালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে গেছেন বেনজীর আহমেদ।
সাব্বির ও আরজুর মাধ্যমে মালদ্বীপ, দুবাই, লন্ডন এবং কানাডায় বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে সাব্বিরের ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। বিদেশে অর্থপাচারের কাজটিও এই দুজনের মাধ্যমেই হতো। কানাডায় আরজুর স্ত্রী ও সন্তান যে বাড়িটিতে থাকেন, জনশ্রুতি রয়েছে সেই বাড়িটিও বেনজীর আহমেদের টাকায় কেনা।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে নামে-বেনামে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাব্বির ও তাঁর অন্যতম সহযোগী বেসরকারি টিভি চ্যানেলের (চ্যানেল ওয়ান) সাবেক বিপণন কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন আরজু ও নাজমুস সাকিব জুবায়ের। এর মধ্যে একটি শিশির বিন্দু, রাহিল’স মিডিয়া লিমিটেড, এলবি লিমিটেড, কানেকশিয়া লিমিটেড, সেন্টার ফর রিনিওয়েবল এনার্জি সার্ভিস লিমিটেড, বেনটেক, এলকো কেবল লিমিটেড, এইএক্সএ পাওয়ার লিমিটেড, মেইনস্কোয়ার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, রিচমন্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, স্টিলথ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিটিএল ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিটি কম্পানিতে এজিএম সাব্বির, আমজাদ হোসেন আরজু ও নাজমুস সাকিব জুবায়েরের বিপুল পরিমাণ শেয়ার আছে। দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলেও মালিকানা রয়েছে সাব্বির এবং আমজাদ হোসেন আরজুর। গুলশান আবাসিক এলাকার সিইসি (জি) ব্লকের ১৩৪ নম্বর (পুরাতন ১৩০ নম্বর) প্লটের ১২ কাঠা ১২ ছটাক জমির ওপর দুটি বেইসমেন্টসহ নির্মিত রেনকন আইকন টাওয়ারে দুই হাজার ২৪২ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট রয়েছে সাব্বিরের। এ ছাড়া ঢাকার গোড়ানে ১০ কাঠার প্লট, সাভার ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনে প্রায় ৬৬টি ঘরবিশিষ্ট বিশাল জমি। এ ছাড়া উত্তরা, গুলশান ও বনানীতে আছে একাধিক ফ্ল্যাট। লন্ডনে বিশাল বাড়ি ও দামি ব্র্যান্ডের একাধিক গাড়ি রয়েছে। দুবাইয়ে ফ্ল্যাট আছে বলেও গুঞ্জন আছে।

বেনজীরের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন এজিএম সাব্বির ওরফে বিকাশ সাব্বির। মেসার্স একটি শিশির বিন্দু নামে একটি প্রকাশনা সংস্থায় তাঁদের সমন্বিত বিনিয়োগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ৫ মার্চ চ-৭০, ৭৯/এ, ফ্ল্যাট নং এফ-৭, ই-৭, উত্তর বাড্ডার ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। এখানে এজিএম সাব্বিরের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা হয়েছে ২৯১, পূর্ব গোড়ান, খিলগাঁও। ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি বেনজীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অংশীদারির চুক্তি হয় বিকাশ সাব্বিরের।

ওই দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মেসার্স একটি শিশির বিন্দুর ২৫ শতাংশের অংশীদার বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জা, ২৫ শতাংশ অংশীদার ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীরের, তাহসিন রিসতা বিনতে বেনজীরেরও রয়েছে ২৫ শতাংশ।

বাদবাকি শেয়ারের ১৫ শতাংশ এজিএম সাব্বিরের, ৫ শতাংশ আনোয়ার হোসেনের ও ৫ শতাংশ নাজমুস সাকিব জুবায়েরের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু মেসার্স একটি শিশির বিন্দু নয়, আরো বেশি কিছু কম্পানিতে অংশীদারি বিনিয়োগ রয়েছে বেনজীর পরিবার ও সাব্বির বিকাশের। বেনজীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ আরেকটি কম্পানি গঠন করেন সাব্বির। স্টিলথ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কম্পানিটির ট্রেড লাইসেন্স ও আরজেএসসি রেজিস্ট্রেশেন নাম্বার যথাক্রমে ০৮৫৬৮৪ ও সি-১৫০৪১৯। এই কম্পানির মালিকানায় রয়েছেন বেনজীর পরিবারের সদস্যরাও। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চ-৭০, ৭৯/এ, ফ্ল্যাট নং এফ-৭, ই-৭, উত্তর বাড্ডার ঠিকানায় স্টিলথ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়।

এ ছাড়া এসটি পিটারস স্কুল অব লন্ডন লিমিটেডের মালিকানায় আছেন এজিএম সাব্বির। এই কম্পানিটিতেও বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জা ও তাঁর মেয়েদের বিনিয়োগ রয়েছে। গত ২৮ মে এই তিনটি কম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন আদালত।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাহিল’স মিডিয়া লিমিটেডকে কাজ দিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন বেনজীর আহমেদ। কম্পানিটির মালিকানায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের কোনো সদস্যের নাম না থাকলেও প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেতেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করতেন সাব্বির।

আরজেএসসির নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই কম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন এজিএম সাব্বির ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী নিরমা খানম এবং পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বোন আফসান-ই-জাহান।

এসটিআর এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাদেক চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিকাশ সাব্বিরের কুড়িগ্রামের মিনি গ্রিড সোলার প্রজেক্টে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করি। এই প্রজেক্টের ৫ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বিনিয়োগ করি। সেখানেও আরো ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। বিনিয়োগের পর তারা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত দেয়নি। এমনকি লভ্যাংশও দেয়নি। এমনকি টাকা উদ্ধারে গেলে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।’

আমজাদ হোসেন আরজু এখনো তাঁকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “২০২১ সালের ৪ আগস্ট সকাল ৭টায় সাদা পোশাকে ছয় থেকে সাতজনের একটি দল আমাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার পকেট থেকে স্বাক্ষরিত চেকের পাতা নিয়ে যায়। তারা এ সময় সাদা কাগজে মুচলেকা নেয়, আর কখনো সাব্বিরের কাছে যেন টাকা ফেরত না চাই। ওই সময় তারা বলে, ‘তুই জানস না সাব্বির স্যারের লোক।’ এখনো সাব্বির ও আরজুরা পুলিশের উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে আমাকে হুমকি দেয়।”

শফিকুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে টাকা নেন বেনজীর। এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন সাব্বির ও আমজাদ হোসেন। ওই সময় তাঁরা মোবাইলে বেনজীর আহমেদের সঙ্গে থাকা একাধিক ছবি আমাকে দেখান। বেনজীর আহমেদ তখন র‍‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আমিও সরল বিশ্বাসে দুই দফায় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু বিনিয়োগের পরই তাঁদের মুখোশ উন্মোচত হয়। তাঁরা টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘টাকা ফেরত পেতে আমি চাপ দিলে ২০২১ সালে আমাকে ধানমণ্ডির ৮ নং ব্রিজসংলগ্ন রবীন্দ্রসরোবর থেকে তুলে নিয়ে যান। এ সময় তাঁরা সাদা কাগজে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমজাদ হোসেন আরজু ও বিকাশ সাব্বিরের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আমি প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু তাঁরা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্ষমতা দেখিয়ে টাকা ফেরত দিতে টালবাহান করেন। একাধিকবার হুমকি দেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে এজিএম সাব্বির ও আমজাদ হোসেন আরজুকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাঁদের ফোনসেট বন্ধ পাওয়া যায়।

সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদের সম্পদের পাহাড় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর তাঁরাও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

সকল প্রকার কম্পিউটার পূন্যের দাম জানতে এখন-ই ক্লিক করুন

বেনজীরের তিন কালো হাত

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০২৪

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদ এবং বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে নিযুক্ত ছিল একাধিক ব্যক্তির একটি দল। তাঁরা মূলত বেনজীরের জন্য দেশে-বিদেশে জমি বা সম্পদ কেনা, ব্যবসায়ীদের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে নির্যাতনের মতো অপকর্ম সামাল দিতেন। শুধু তা-ই নয়, বেনজীর নিজে নেপথ্যে থেকে এই সিন্ডিকেট সামনে রেখে নিয়ন্ত্রণ করতেন পুলিশের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্র্যান্ডিং, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য। এই দলের অগ্রভাগে ছিলেন এজিএম সাব্বির ওরফে বিকাশ সাব্বির, নাজমুস সাকিব জুবায়ের ও আমজাদ হোসেন আরজু।

অনুসন্ধান বলছে, বেনজীর আহমেদের ‘আলাদীনের চেরাগ’ তথা জাদুর কাঠির স্পর্শে আলোকিত হয়ে ওঠেন তাঁর সহযোগীরাও। বেনজীরের মতো তাঁরাও দেশে-বিদেশে গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। বেনজীরের স্ত্রী ও কন্যাদের সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসা রয়েছে। আছে নামে-বেনামে জমি, ফ্ল্যাট ও প্লট।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই এই সহযোগীরাও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন বিকাশ সাব্বির। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা সাব্বির বড় হন রাজধানীর পূর্ব গোড়ানে। শিক্ষাজীবন শেষ করে ২০০২ সালে মাস্টারমাইন্ড স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।

সেখানে এক নারী শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁকে বিয়ে করেন সাব্বির। ওই নারী শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হওয়ায় সাব্বিরও যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে নাগরিকত্ব লাভের পর ওই স্ত্রীকে ত্যাগ করে একজন বিমানবালাকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর একটি ছেলে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই সন্তান রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাস্টারমাইন্ড স্কুলে শিক্ষকতার সময় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে মির্জা আব্বাস ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন।

সেই সূত্রে বিএনপির শীর্ষ ও মাঝারি মানের অনেক নেতার সঙ্গে গড়ে তোলেন সখ্য। তা ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রশীদ হাবীব তাঁর বাল্যবন্ধু হওয়ার কারণে বিএনপির অনেক নেতার সঙ্গে এখনো তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

এদিকে ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সমাবেশ ঘিরে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক হন বিকাশ সাব্বির। ওই সময় সাব্বিরের গতিবিধি গোয়েন্দা বিভাগের নজরে এলে তাঁকে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বনানী থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। তখন বেনজীর আহমেদের জোরালো সুপারিশে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র বলছে, লন্ডনে সাব্বিরের সঙ্গে পরিচয় হয় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ছোট ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তসলিম আহমেদ মুন্নার। সেই সূত্রে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে সম্পর্ক হয় বেনজীর আহমেদের সঙ্গে। এর পরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাব্বির। আমজাদ হোসেন আরজু ও নাজমুস সাকিব জুবায়েরের সঙ্গে গড়ে তোলেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। ক্যাসিনোকাণ্ডে আটক মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে সাব্বির ওরফে বিকাশ বেনজীর আহমেদের ক্যাসিনোর মাসিক চাঁদার টাকা সংগ্রহ করতেন। পরবর্তী সময়ে বেনজীর আহমেদের তোড়জোড়ে সাব্বির মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক ও ক্রিকেট কমিটির প্রধান নির্বাচিত হন।

অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন এই বিকাশ সাব্বির। এর মধ্যেই বেনজীর আহমেদের পরিবারের ব্যাবসায়িক অংশীদার হয়ে ওঠেন এজিএম সাব্বির, নাজমুস সাকিব জুবায়ের ও আমজাদ হোসেন আরজু। এই তিনজনের সঙ্গে একাধিকবার থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দুবাই, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পর্তুগালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে গেছেন বেনজীর আহমেদ।
সাব্বির ও আরজুর মাধ্যমে মালদ্বীপ, দুবাই, লন্ডন এবং কানাডায় বাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে সাব্বিরের ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। বিদেশে অর্থপাচারের কাজটিও এই দুজনের মাধ্যমেই হতো। কানাডায় আরজুর স্ত্রী ও সন্তান যে বাড়িটিতে থাকেন, জনশ্রুতি রয়েছে সেই বাড়িটিও বেনজীর আহমেদের টাকায় কেনা।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে নামে-বেনামে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাব্বির ও তাঁর অন্যতম সহযোগী বেসরকারি টিভি চ্যানেলের (চ্যানেল ওয়ান) সাবেক বিপণন কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন আরজু ও নাজমুস সাকিব জুবায়ের। এর মধ্যে একটি শিশির বিন্দু, রাহিল’স মিডিয়া লিমিটেড, এলবি লিমিটেড, কানেকশিয়া লিমিটেড, সেন্টার ফর রিনিওয়েবল এনার্জি সার্ভিস লিমিটেড, বেনটেক, এলকো কেবল লিমিটেড, এইএক্সএ পাওয়ার লিমিটেড, মেইনস্কোয়ার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, রিচমন্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, স্টিলথ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিটিএল ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিটি কম্পানিতে এজিএম সাব্বির, আমজাদ হোসেন আরজু ও নাজমুস সাকিব জুবায়েরের বিপুল পরিমাণ শেয়ার আছে। দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলেও মালিকানা রয়েছে সাব্বির এবং আমজাদ হোসেন আরজুর। গুলশান আবাসিক এলাকার সিইসি (জি) ব্লকের ১৩৪ নম্বর (পুরাতন ১৩০ নম্বর) প্লটের ১২ কাঠা ১২ ছটাক জমির ওপর দুটি বেইসমেন্টসহ নির্মিত রেনকন আইকন টাওয়ারে দুই হাজার ২৪২ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট রয়েছে সাব্বিরের। এ ছাড়া ঢাকার গোড়ানে ১০ কাঠার প্লট, সাভার ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনে প্রায় ৬৬টি ঘরবিশিষ্ট বিশাল জমি। এ ছাড়া উত্তরা, গুলশান ও বনানীতে আছে একাধিক ফ্ল্যাট। লন্ডনে বিশাল বাড়ি ও দামি ব্র্যান্ডের একাধিক গাড়ি রয়েছে। দুবাইয়ে ফ্ল্যাট আছে বলেও গুঞ্জন আছে।

বেনজীরের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে অংশীদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন এজিএম সাব্বির ওরফে বিকাশ সাব্বির। মেসার্স একটি শিশির বিন্দু নামে একটি প্রকাশনা সংস্থায় তাঁদের সমন্বিত বিনিয়োগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ৫ মার্চ চ-৭০, ৭৯/এ, ফ্ল্যাট নং এফ-৭, ই-৭, উত্তর বাড্ডার ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। এখানে এজিএম সাব্বিরের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা হয়েছে ২৯১, পূর্ব গোড়ান, খিলগাঁও। ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি বেনজীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অংশীদারির চুক্তি হয় বিকাশ সাব্বিরের।

ওই দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মেসার্স একটি শিশির বিন্দুর ২৫ শতাংশের অংশীদার বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জা, ২৫ শতাংশ অংশীদার ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীরের, তাহসিন রিসতা বিনতে বেনজীরেরও রয়েছে ২৫ শতাংশ।

বাদবাকি শেয়ারের ১৫ শতাংশ এজিএম সাব্বিরের, ৫ শতাংশ আনোয়ার হোসেনের ও ৫ শতাংশ নাজমুস সাকিব জুবায়েরের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু মেসার্স একটি শিশির বিন্দু নয়, আরো বেশি কিছু কম্পানিতে অংশীদারি বিনিয়োগ রয়েছে বেনজীর পরিবার ও সাব্বির বিকাশের। বেনজীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ আরেকটি কম্পানি গঠন করেন সাব্বির। স্টিলথ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কম্পানিটির ট্রেড লাইসেন্স ও আরজেএসসি রেজিস্ট্রেশেন নাম্বার যথাক্রমে ০৮৫৬৮৪ ও সি-১৫০৪১৯। এই কম্পানির মালিকানায় রয়েছেন বেনজীর পরিবারের সদস্যরাও। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চ-৭০, ৭৯/এ, ফ্ল্যাট নং এফ-৭, ই-৭, উত্তর বাড্ডার ঠিকানায় স্টিলথ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়।

এ ছাড়া এসটি পিটারস স্কুল অব লন্ডন লিমিটেডের মালিকানায় আছেন এজিএম সাব্বির। এই কম্পানিটিতেও বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জা ও তাঁর মেয়েদের বিনিয়োগ রয়েছে। গত ২৮ মে এই তিনটি কম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন আদালত।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাহিল’স মিডিয়া লিমিটেডকে কাজ দিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন বেনজীর আহমেদ। কম্পানিটির মালিকানায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের কোনো সদস্যের নাম না থাকলেও প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেতেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করতেন সাব্বির।

আরজেএসসির নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই কম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন এজিএম সাব্বির ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী নিরমা খানম এবং পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বোন আফসান-ই-জাহান।

এসটিআর এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু সাদেক চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিকাশ সাব্বিরের কুড়িগ্রামের মিনি গ্রিড সোলার প্রজেক্টে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করি। এই প্রজেক্টের ৫ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বিনিয়োগ করি। সেখানেও আরো ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। বিনিয়োগের পর তারা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত দেয়নি। এমনকি লভ্যাংশও দেয়নি। এমনকি টাকা উদ্ধারে গেলে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।’

আমজাদ হোসেন আরজু এখনো তাঁকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “২০২১ সালের ৪ আগস্ট সকাল ৭টায় সাদা পোশাকে ছয় থেকে সাতজনের একটি দল আমাকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আমার পকেট থেকে স্বাক্ষরিত চেকের পাতা নিয়ে যায়। তারা এ সময় সাদা কাগজে মুচলেকা নেয়, আর কখনো সাব্বিরের কাছে যেন টাকা ফেরত না চাই। ওই সময় তারা বলে, ‘তুই জানস না সাব্বির স্যারের লোক।’ এখনো সাব্বির ও আরজুরা পুলিশের উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে আমাকে হুমকি দেয়।”

শফিকুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একই প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে টাকা নেন বেনজীর। এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন সাব্বির ও আমজাদ হোসেন। ওই সময় তাঁরা মোবাইলে বেনজীর আহমেদের সঙ্গে থাকা একাধিক ছবি আমাকে দেখান। বেনজীর আহমেদ তখন র‍‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আমিও সরল বিশ্বাসে দুই দফায় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু বিনিয়োগের পরই তাঁদের মুখোশ উন্মোচত হয়। তাঁরা টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘টাকা ফেরত পেতে আমি চাপ দিলে ২০২১ সালে আমাকে ধানমণ্ডির ৮ নং ব্রিজসংলগ্ন রবীন্দ্রসরোবর থেকে তুলে নিয়ে যান। এ সময় তাঁরা সাদা কাগজে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমজাদ হোসেন আরজু ও বিকাশ সাব্বিরের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে আমি প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু তাঁরা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্ষমতা দেখিয়ে টাকা ফেরত দিতে টালবাহান করেন। একাধিকবার হুমকি দেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে এজিএম সাব্বির ও আমজাদ হোসেন আরজুকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তাঁদের ফোনসেট বন্ধ পাওয়া যায়।

সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদের সম্পদের পাহাড় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর তাঁরাও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ