ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বুমরাহকে নিয়ে সুরিয়াকুমার, ‘সে আমার ব্যাট ভেঙে ফেলে, নয়তো পা’

এই কারণে গত দুই-তিন বছরে নেটে জাসপ্রিত বুমরাহর বল খেলেননি সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।

জাসপ্রিত বুমরাহকে নিয়ে প্রশ্ন হতেই ‘হো-হো’ করে হেসে উঠলেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। সেই চওড়া হাসি মুখে ধরে রেখেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটসম্যান বললেন, গত দুই-তিন বছরে নেটে জাসপ্রিত বুমরাহর বল খেলেননি তিনি। কারণটাও জানালেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান, নিজের ব্যাট আর পা নিরাপদ রাখতে হবে তো!

আইপিএলে বৃহস্পতিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দারুণ জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল এই দুজনেরই। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এ দিন ২০ ওভারে ১৯৬ রান তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু প্রতিপক্ষের এই রান জোয়ারেও বুমরাহ চার ওভারে ২১ রান দিয়ে শিকার করেন পাঁচ উইকেট।

রান তাড়ায় ইশান কিষানের ৩৪ বলে ৬৯ রানের ইনিংস মুম্বাইকে এনে দেয় উড়ন্ত শুরু। পরে সুরিয়াকুমারের ১৯ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তারা এগিয়ে যায় জয়ের কাছে। শেষ পর্যন্ত ২৭ বল বাকি রাখতেই ম্যাচ জিতে নেয় তারা ৭ উইকেটে।

ম্যাচের পর টিভি সম্প্রচারে কথোপকথনে ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রি নানা কথার ফাঁকে সুরিয়াকুমারকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনাদের দলের ‘ফ্রিক’ জাসপ্রিত বুমরাহকে নিয়ে কি বলবেন?” শব্দ করে হেসে উঠে সুরিয়া বললেন, “জাসপ্রিত বুমরাহকে নিজেদের দলে পাওয়া সবসময়ই দারুণ। আর গত দুই-তিন বছরে নেটে কখনোই আমি তার বোলিং খেলিনি, কারণ সে হয় আমার ব্যাট ভেঙে ফেলে, নয়তো পা…।”

সুরিয়াকুমারের নিজের জন্যও এই ম্যাচের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ স্বস্তির। চোটের কারণে মৌসুমের শুরুর ম্যাচগুলি তিনি খেলতে পারেননি। এই ম্যাচের আগের ম্যাচটি দিয়ে তিনি ফেরেন মাঠে। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে আউট হয়ে যান শূন্য রানেই।

এই ম্যাচে স্বরূপে ফিরতে পারা তাই তার নিজের জন্য যেমন আনন্দের, বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যও তা স্বস্তির। সুরিয়াকুমার অবশ্য বললেন, দলের সঙ্গে যোগ দিতে পেরেই তিনি খুশি।

“ওয়াংখেড়েতে ফিরতে পারা সবসময়ই দারুণ এবং স্কোয়াডের সঙ্গে যোগ দিতে পারা ছিল সবচেয়ে খুশির ব্যাপার। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় মানসিকভাবে আমি এখানে ছিলাম, আমার শরীরটা ছিল বেঙ্গালুরুতে (জাতীয় একাডেমিতে)। এখানে আসার পর মনে হয়েছে, আমি যেন এখানেই ছিলাম…।”

সুরিয়াকুমার ছন্দে থাকলে যেসব শট খেলে, সেসবের প্রায় সবাই দেখা গেছে এ দিন তার ১৭ বলের ফিফটিতে। তবে দারুণভাবে নজর কেড়েছে তার কবজির মোচড়ে শটগুলি। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলও দারুণভাবে খেলে অন সাইড দিয়ে বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি।

সুরিয়াকুমার জানালেন, এসব শট তার পরিশ্রমের ফসল।

“এই শটগুলো প্রচুর অনুশীলন করি আমি। এখন এসব আমার মাসল মেমোরিতেই থাকে। স্রেফ মাঠে নেমে উপভোগ করি।”

বুমরাহকে নিয়ে সুরিয়াকুমার, ‘সে আমার ব্যাট ভেঙে ফেলে, নয়তো পা’

আপডেট সময় : ০৯:২০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

এই কারণে গত দুই-তিন বছরে নেটে জাসপ্রিত বুমরাহর বল খেলেননি সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।

জাসপ্রিত বুমরাহকে নিয়ে প্রশ্ন হতেই ‘হো-হো’ করে হেসে উঠলেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ। সেই চওড়া হাসি মুখে ধরে রেখেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটসম্যান বললেন, গত দুই-তিন বছরে নেটে জাসপ্রিত বুমরাহর বল খেলেননি তিনি। কারণটাও জানালেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান, নিজের ব্যাট আর পা নিরাপদ রাখতে হবে তো!

আইপিএলে বৃহস্পতিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দারুণ জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল এই দুজনেরই। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এ দিন ২০ ওভারে ১৯৬ রান তোলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু প্রতিপক্ষের এই রান জোয়ারেও বুমরাহ চার ওভারে ২১ রান দিয়ে শিকার করেন পাঁচ উইকেট।

রান তাড়ায় ইশান কিষানের ৩৪ বলে ৬৯ রানের ইনিংস মুম্বাইকে এনে দেয় উড়ন্ত শুরু। পরে সুরিয়াকুমারের ১৯ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তারা এগিয়ে যায় জয়ের কাছে। শেষ পর্যন্ত ২৭ বল বাকি রাখতেই ম্যাচ জিতে নেয় তারা ৭ উইকেটে।

ম্যাচের পর টিভি সম্প্রচারে কথোপকথনে ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রি নানা কথার ফাঁকে সুরিয়াকুমারকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনাদের দলের ‘ফ্রিক’ জাসপ্রিত বুমরাহকে নিয়ে কি বলবেন?” শব্দ করে হেসে উঠে সুরিয়া বললেন, “জাসপ্রিত বুমরাহকে নিজেদের দলে পাওয়া সবসময়ই দারুণ। আর গত দুই-তিন বছরে নেটে কখনোই আমি তার বোলিং খেলিনি, কারণ সে হয় আমার ব্যাট ভেঙে ফেলে, নয়তো পা…।”

সুরিয়াকুমারের নিজের জন্যও এই ম্যাচের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ স্বস্তির। চোটের কারণে মৌসুমের শুরুর ম্যাচগুলি তিনি খেলতে পারেননি। এই ম্যাচের আগের ম্যাচটি দিয়ে তিনি ফেরেন মাঠে। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে আউট হয়ে যান শূন্য রানেই।

এই ম্যাচে স্বরূপে ফিরতে পারা তাই তার নিজের জন্য যেমন আনন্দের, বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যও তা স্বস্তির। সুরিয়াকুমার অবশ্য বললেন, দলের সঙ্গে যোগ দিতে পেরেই তিনি খুশি।

“ওয়াংখেড়েতে ফিরতে পারা সবসময়ই দারুণ এবং স্কোয়াডের সঙ্গে যোগ দিতে পারা ছিল সবচেয়ে খুশির ব্যাপার। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় মানসিকভাবে আমি এখানে ছিলাম, আমার শরীরটা ছিল বেঙ্গালুরুতে (জাতীয় একাডেমিতে)। এখানে আসার পর মনে হয়েছে, আমি যেন এখানেই ছিলাম…।”

সুরিয়াকুমার ছন্দে থাকলে যেসব শট খেলে, সেসবের প্রায় সবাই দেখা গেছে এ দিন তার ১৭ বলের ফিফটিতে। তবে দারুণভাবে নজর কেড়েছে তার কবজির মোচড়ে শটগুলি। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলও দারুণভাবে খেলে অন সাইড দিয়ে বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি।

সুরিয়াকুমার জানালেন, এসব শট তার পরিশ্রমের ফসল।

“এই শটগুলো প্রচুর অনুশীলন করি আমি। এখন এসব আমার মাসল মেমোরিতেই থাকে। স্রেফ মাঠে নেমে উপভোগ করি।”